A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / আইন ও অপরাধ / হত্যাকারীদের ধরতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাঁচ দিনেও তদন্তে অগ্রগতি নেই

হত্যাকারীদের ধরতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাঁচ দিনেও তদন্তে অগ্রগতি নেই

Loading...

হত্যাকারীদের ধরতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

পাঁচ দিনেও তদন্তে অগ্রগতি নে

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যার তদন্তে পাঁচ দিনেও তেমন অগ্রগতি নেই। হত্যার মোটিভ (কারণ) সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে পুলিশ। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি হত্যার কারণও খুঁজছেন।

এদিকে সাংসদ মনজুরুলের হত্যাকারীদের যেভাবেই হোক খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর প্রশাসনের কর্মকর্তা ও তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২০১৩ সালে গাইবান্ধায় পুলিশের চার সদস্য হত্যা মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

সাংসদ হত্যা মামলা তদন্তের তদারকিতে যুক্ত র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকারীদের খোঁজার পাশাপাশি তাঁরা হত্যার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে কারণ স্পষ্ট হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের সময় সাংসদের সম্বন্ধী বেদারুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সাংসদের গ্রামের কিছু লোক ও পরিবারের কয়েকজন।

বেদারুলের সঙ্গে র‌্যাবের কর্মকর্তারা একাধিকবার কথা বলেছেন। তাতে তাঁদের মনে হয়েছে, তিনি গ্রামের সরল মানুষ, ঘটনার আকস্মিকতায় একটু বেসামাল হয়ে পড়েছিলেন। তা ছাড়া এই পরিবারটি কেন সাংসদকে খুন করতে যাবে, সে হিসাব মিলছে না। কারণ, গ্রামবাসী, সাংসদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লোকজন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংসদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজকর্ম, তদবির—সবকিছুতে সিদ্ধান্ত দিতেন তাঁর স্ত্রী খুরশীদ জাহান। সাংসদের শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাংসদের প্রভাবে এলাকায় প্রভাবশালী ও অর্থশালী হয়ে উঠেছে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে সাংসদকে হত্যা করার কোনো কারণ তাঁদের নেই।

র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, এর বাইরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধ, সাংসদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, লেনদেন, ঋণ ইত্যাদি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখানেও এমন কোনো বিরোধের কথা জানা যায়নি, যে কারণে কেউ তাঁকে হত্যা করবে। এমনকি জেলা বা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরোধও অতটা প্রকট ছিল না। এসবের বাইরে সন্দেহের মধ্যে থাকে জামায়াতে ইসলামী ও জঙ্গিগোষ্ঠী। সাংসদ মনজুরুল এলাকায় জামায়াতের ঘাঁটি ভেঙেছেন। এ জন্য জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে এলাকায় একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছেন। সাংসদ ও তাঁর লোকজনের হাতে মার খাওয়া জামায়াত-শিবিরের নেতারা প্রতিশোধস্পৃহা থেকে হত্যা করতে পারেন। তবে এলাকার কয়েকজন জামায়াত নেতা ও তাঁদের ছেলেরা এলাকা ছেড়েছেন বা গা ঢাকা দিয়েছেন। এগুলো সন্দেহ বাড়ায়।

জঙ্গিরা হত্যায় যুক্ত থাকতে পারে কি না, এ প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করা হয়েছিল জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে। সবাই বলেছেন, জঙ্গিদের দিকেও তাঁদের জোরালো সন্দেহ। কারণ, গাইবান্ধা জঙ্গিপ্রবণ এলাকা। কিন্তু সাধারণত জঙ্গিরা কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরে দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো বার্তা মেলেনি।

তবে গতকাল বামনডাঙ্গায় সাংসদের বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়দের কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকার লোকজন বলেন, সাংসদের স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় গেছেন সাংসদের বড় বোন আফরোজা বারী। তাই বাড়িতে কেউ নেই। মঙ্গলবার আফরোজা বারী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, নিরাপত্তাসহ সবদিক বিবেচনা করেই তাঁরা সাংসদের স্ত্রী ও ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাংসদকে হত্যা করতেই এসেছিল পাঁচজন। বাইরে তাদের আরও লোক ছিল বলে গ্রামবাসীর বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়। একাধিক মোটরসাইকেল, আগ্নেয়াস্ত্র—এসবও তাদের জোগাড় করতে হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের কয়েক দিনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে, কয়েক লাখ টাকাও খরচ করতে হয়েছে। তাই এর পেছনে শক্তিশালী কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে বলেই তাঁরা ধারণা করছেন।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম গতকাল বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে জেলা পুলিশের সিআইডি, পিবিআই ও র‌্যাব কাজ করছে।

জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, অপরাধস্থল থেকে পাওয়া আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনা নেওয়া হয়েছে। সেটি ধরে তাদের খোঁজা হচ্ছে। হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সুন্দরগঞ্জ থানার একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলের সম্পর্কে কিছু তথ্য মিলেছে, সে অনুযায়ী তার মালিকের খোঁজে কয়েক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স

গাইবান্ধা শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ মাঠে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা ও সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সব সময় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াত, ওই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা দিত, তাকেই নির্মমভাবে হত্যা করেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে এভাবে হত্যা করা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। কাজেই যারা এর সঙ্গে জড়িত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে আমরা এর মধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি, যেকোনোভাবেই হোক তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’

ভিডিও কনফারেন্সে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখানে পুলিশ ও জনপ্রশাসন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করছে। সাংসদ মনজুরুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগের নাশকতা মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়ে বলেন, ‘২০১৩ সালে এই সুন্দরগঞ্জসহ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি ও বিভিন্ন জায়গায় যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, তার কী হলো? সুন্দরগঞ্জে জামায়াত-বিএনপি যে চারজন পুলিশকে হত্যা করেছিল, সেই খুনিরা এ পর্যন্ত ধরা পড়েছে কি না?’

জবাবে এসপি বলেন, ২০১৩ সালে ২৩৫ জন মিছিল করে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র আক্রমণ করে। চার পুলিশকে হত্যা করা হয়। তাদের ১৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদেরও ধরা হবে। এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং এটা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। কালই (বৃহস্পতিবার) তারিখ আছে।

প্রধানমন্ত্রী ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের নাশকতার মামলাগুলোর বিষয়েও জানতে চান। এসপি বলেন, ২০১৪ সালের নাশকতার ঘটনায় ১৩৯টি মামলা হয়েছে।

Check Also

ধর্ষণের ভিডিও: জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

Loading... ধর্ষণের ভিডিও: জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ     বেড়াতে নিয়ে এসে তুরাগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *